শর্করা জাতীয় খাবার কি কি – শরীরের জন্য কতটুকু শর্করা প্রয়োজন।

শর্করা জাতীয় খাবার কি কি : শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট (ইংরেজিতে: Carbohydrate) বলা হয়। শর্করা হল এক ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ, যার প্রতিটি অণুতে কার্বনের (C) সাথে হাইড্রোজেন (H) এবং অক্সিজেন (O) থাকে, যেখানে হাইড্রোজেনের পরমাণুর সাথে অক্সিজেন পরমাণুর অনুপাত হয় ২:১।

অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে বা অতিরিক্ত ওজন কমাতে শর্করা জাতীয় খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত জরুরি। কারণ শর্করা জাতীয় খাবার শরীরের ওজন বৃদ্ধির জন্য দায়ী। তবে আপনার ডায়েটে শর্করা জাতীয় খাবার সম্পূর্ণ বাদ দিলে ভালো হওয়ার চেয়ে ক্ষতি বেশি হতে পারে। এজন্য কম শর্করা রয়েছে এমন খাবার গ্রহণ করা সবচেয়ে ভালো।

শর্করার কাজ কী

ছত্রাক, প্রাণী, ব্যাকটেরিয়া গ্লাইকোজেন নামক কার্বোহাইড্রেট সঞ্চয় করে। শর্করা জীবদেহের শক্তির প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করে। উদ্ভিদের সাপোর্টিং টিস্যুর গাঠনিক উপাদান হিসেবে কাজ করে। উদ্ভিদের দেহ গঠনকারী পদার্থগুলোর কার্বন কাঠামো প্রদান করে থাকে। হাড়ের সন্ধিস্থলে লুব্রিকেন্ট হিসেবে কাজ করে।

কার্বোহাইড্রেটের কাজ

শর্করা আমাদের শরীরে কি ধরনের কাজ করে থাকে যা গুণে শেষ করা যাবে না। নিম্নে শর্করার কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ দেওয়া হলো:

  •  প্রথমত কার্বোহাইড্রেট আমাদের শরীরকে শক্তি দেয়।
  • এটি আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি জমা করে রাখে।
  •  আমাদের দেহের পেশীর পরিমাণ ঠিক রাখতে সাহায্য করে এবং এর রক্ষণাবেক্ষণ করে।
  • আমাদের মস্তিস্ক এক্সক্লুসিভভাবে Glucose থেকে শক্তিগ্রহণ করে সচল রাখে।

শর্করা জাতীয় খাবার কি কি

আলু, রুটি, মুড়ি, চিড়া, ধান বা চাল, গম, পাইরুটি, ভূট্টা, বাজরা, ওলকপি,বীট, কচু, গাজর, খেজুর, আঙ্গুর, আপেল, তরমুজ, বেল, থোড় ইত্যাদি। আম, কমলালেবু, কলা প্রর্ভতি পাকা ফলে ফলশর্করা। চিনি, গুড়, মিছরী ইত্যাদিতে ইক্ষু শর্করা। পাঁঠার যকৃৎ, দুধ ও পেশীতে প্রাণীজ শ্বেতসার পাওয়া যায়।

অতিরিক্ত শর্করা খেলে কি হয়

রক্তে অতিরিক্ত শর্করা শরীরের সংবেদনশীল টিস্যু যেমন- স্নায়ুকোষ ও রক্তনালী ইত্যাদিতে ক্ষতি করে। হৃদরোগ, বৃক্ক নষ্ট হওয়া, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, ‘নিউরোপ্যাথি’, দাঁত ও মাড়ির সমস্যা সৃষ্টি করা, হাড় ক্ষয় ও হাড়ের জোড়ের সমস্যা এসব কিছুর পেছনেই রক্তে থাকা অতিরিক্ত শর্করা দায়ী।

শর্করা জাতীয় খাবার না খেলে কি হয়

আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় কম শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট রাখাটা অতিরিক্ত ওজন কমানোর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন গবেষণা ঠিক এমনটাই বলে থাকে। লো-কার্ব ফুড বা কম শর্করা জাতীয় খাবার আমাদের ক্ষুধাকে উপশম করে এবং কাবার খাওয়ার সময় খাবার গ্রহণের পরিমাণ না কমিয়ে কেবলমাত্র লো-কার্ব ফুড গ্রহণ করেও ওজন কমানো যায়। যার ফলে আমাদের দেহের সুস্থ্যতা বেড়ে যায়।

শর্করা জাতীয় খাবার কি কাজ করে

পুষ্টিবিজ্ঞানের মতে, শর্করা হচ্ছে শরীরে শক্তির মূল জোগান দাতা। এই গ্লুকোজ একাই দেহের স্নায়ুতন্ত্রের শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে থাকে। তাই মানুষের প্রতিদিনের খাবারে মোট ক্যালরির ৫০% থেকে ৬০% শর্করা থাকা উচিত। অতিরিক্ত শর্করা দেহের জন্য ক্ষতিকর। পরিমান মত শর্করা গ্রহন করা উচিত।

প্রতিদিন কতটুকু শর্করা খেতে হবে?

আপনি দিনে কতটুকু শর্করা গ্রহন করবেন তা নির্ভর করে আপনার বয়স, ওজন, কাজের পরিমাণ ইত্যাদির ওপর। তবে স্বাভাবিক মাত্রায় ধরা হয় দিনে অন্তত ৩০০ গ্রাম শর্করা গ্রহন করা যাবে। তবে ওজন কমানোর জন্য আপনি সেটা কমিয়ে ৫০ -১৫০ গ্রাম পর্যন্ত নিয়ে আসতে পারেন ।

জেনে নিন:  যৌনস্বাস্থ্যে উপকারী খাবার কি?

আঁশজাতীয় খাবার কেন খাবেন

খাবারের আঁশ পরিপাকনালী থেকে আমাদের খাবারের কোলেস্টেরল শোষণে বাধা দেয়, এর ফলে দেহের রক্তের কোলেস্টেরলসহ চর্বির মাত্রা স্বাভাবিক থাকে। ফলে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তনালীর রোগ বা অ্যাথেরোসক্লেরোসিস হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। খাদ্য গ্রহণের পর আমাদের রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা যাতে হঠাৎ করে বেড়ে যেতে না পারে সে ব্যাপারে আঁশজাতীয় অংশ গুরুত্ব বহন করে।

এতে ডায়াবেটিস রোগের ঝুঁকি কমে। ডায়াবেটিস রোগীদের অনেক সময় রক্তে চর্বির পরিমাণ বেশি থাকে, সেক্ষেত্রে আঁশজাতীয় খাবার সেটির নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। যারা বেশি আঁশজাতীয় খাবার খেয়ে থাকেন তাদের পিত্তথলির রোগ ও লিভারের রোগও কম হয়। অনেক দিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগলে এর প্রভাব মনের ওপর পড়তে পারে। এতে কাজে-কর্মে মনোসংযোগ সুষ্ঠু হয় না, অশান্তি, উদ্বিগ্নতা, কোনো কঠিন রোগ হয়েছে এমন ধারণা মনে চেপে বসে।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্নের উত্তর FAQ’S

কোন ফলে সবচেয়ে বেশি শর্করা থাকে?
উত্তর: শর্করা সবাচেয়ে বেশি থাকে ডালিমে। একটি ডালিমে ৩৮.৬ গ্রাম চিনি থাকে।

মানুষ কোন শর্করা হজম করতে পারে না?
উত্তর: আঁশ হলো এক ধরনের শর্করা, আঁশ মানব দেহ সম্পূর্ণ হজম করতে পারে না।

প্রতিদিন কতটুকু শর্করা খেতে হবে?
উত্তর: প্রতিদিন কতটুকু শর্করা খাবেন তা নির্ভর করে বয়স, ওজন, কাজের পরিমাণ ইত্যাদির ওপর। তবে স্বাভাবিক মাত্রা ধরা হয় দিনে ৩০০ গ্রাম।

ভাত কি শর্করা জাতীয় খাবার?
উত্তর: ভাত প্রধানত শর্করা সরবরাহ করে। তবে ভাতে কিছুটা আমিষ ও পাওয়া যায়। ভাতে শর্করা ৭৯%, স্নেহ ৬%, রয়েছে এবং কিছু পরিমানে আমিষ, ভিটামিন ও খনিজ লবণও থাকে।

শর্করা কত প্রকার?
উত্তর: শর্করা দুই প্রকার যথা (ক) সরল (খ) জটিল।

শেষকথা

শর্করা একটি মিষ্টি জাতীয় পদার্থ যা মূলত সক্করিশল্লি বা গান্ডুলি বাক্স গাছের রস থেকে প্রাপ্ত হয়। এটি একটি কার্বোহাইড্রেট, অর্থাৎ প্রধানত সক্করিদ্রব্য, হিসেবে পরিচিত। সক্করি মূলত গ্লুকোজ, ফ্রাক্টোজ, এবং সাক্করোজ নামক কার্বোহাইড্রেটের সমষ্টি। মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে, শর্করা খাওয়ার মাধ্যমে কার্বোহাইড্রেট এবং শক্তি প্রদান হতে পারে, কিন্তু এটি উচ্চ ক্যালোরি এবং সক্করি যুক্ত হয়ার জন্য ব্যাপকভাবে পরিচিত হওয়ায়, এটি অত্যন্ত মাত্রায় এবং বিবেচনা করে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। শর্করা জাতীয় খাবার কি কি তা জেনে সেই সমস্থ খাবার গ্রহন করা জরুরী।