দূর্গাসাগর দিঘী- বরিশালের বিখ্যাত এই দিঘী যাবার উপায় ও ভ্রমন টিপস

দূর্গাসাগর দিঘী (Durgasagar Dighi) এর ইতিহাস: দুর্গাসাগর হল, বরিশাল জেলার অন্তর্গত একটি বৃহৎ দিঘী। বরিশাল শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার উত্তরে স্বরূপকাঠি – বরিশাল সড়কে মাধবপাশায় এই দিঘীটির অবস্থান।

শুধু মাত্র দিঘীর জলাভূমির পরিমাণ ২৭ একর ৩৮ শতাংশ এবং ১৮ একর ৪ শতাংশ পাড়, পাড়গুলো উওর-দক্ষিনে লম্বা ১৪৯০ ফুট এবং প্রশস্ত পূর্ব-পশ্চিমে ১৩৬০ ফুট। দিঘীর পার্শবর্তী পাড় ও জমি সহ মোট আয়তন ৪৫.৪২ একর।

দিঘীর মাঝখানে ৬০ শতাংশ পরিমানের ভূমির উপর জঙ্গলপূর্ণ একটি ছোট দ্বীপ আছে। এই দ্বীপের সৌন্দর্য দর্শণার্থীদের প্রধান আকর্ষণ। বাতাসের সাথে দূর্গাসাগর দিঘীতে ঢেউ এর পর ঢেউ উঠে। স্থানীয়দের কাছে এটি মাধবপাশা দিঘী নামেও পরিচিত।

১৭৮০ খ্রি: চন্দ্রদ্বীপের পঞ্চদশ রাজা শিবনারায়ন বিশাল আকৃতির এই জলাধারটি খনন করেন এবং তার স্ত্রী দুর্গা মতির নাম অনুসারে এর নামকরন করেন দুর্গাসাগর। ১৯৭৪ সালে সরকারি উদ্যোগে এই বিশাল দিঘীটি পুনরায় সংস্কারের কাজ করা হয়। বর্তমানে “দুর্গাসাগর দিঘীর উন্নয়ন ও পাখির অভয়ারন্য” নামে একটি প্রকল্প রয়েছে যার অধিনে বরিশাল জেলা প্রশাসন দিঘীটির তত্ত্বাবধান করছে।

সম্পূর্ণ দিঘীটি চতুর্দীকে উঁচু সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা এবং দুই দিকে প্রবেশের জন্য দুইটি গেট রয়েছে। সকল মৌসুমে দিঘীর পাড় লোকে ভরপুর থাকে। শীতকালে দুর্গাসাগর দিঘীতে অতিথি পাখির সমাগম হয়। ঝাকে ঝাকে আশা সরাইল, বালিহাস সহ নানান প্রজাতির হাজার হাজার শীতকালীন পাখির কলকাকলিতে দিঘীর পরিবেশ মুখরিত থাকে। পাখিগুলো দিঘীর মাঝখানের দ্বীপে আশ্রয় নেয়। কখন কখনও আকাশে ঝাকে ঝাকে উড়ে বেড়ায় যা দর্শনার্থীদের আলাদা আনন্দ দেয়। ২৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই দিঘীর সৌন্দয্য দেখতে প্রতিদিন শতশত লোকের সমাগম ঘটে। চৈত্র মাসের অষ্টমী তিথীতে সনাতন ধর্মালম্বীরা দিঘীতে স্নানের উদ্দেশ্যে সমবেত হন।

ঐতিহ্যবাহী দূগাসাগর দিঘী বরিশাল
দুর্গাসাগর দিঘী

দুর্গাসাগর দিঘী যাওয়ার উপায়

আপনি যদি গ্রুপ করে অথবা পরিবার নিয়ে দুর্গাসাগর দিঘী দেখতে চান তাহলে সর্বপ্রথম আপনাকে দেশের যে কোন স্থান হতে প্রথমে বরিশাল শহরে আসতে হবে। বরিশাল থেকে চাখার যাওয়ার বাসে উঠে চাখার যাওয়ার আগে দূর্গাসাগর দীঘির গেটের সামনেই নামতে পারবেন। এছাড়া বরিশাল লঞ্চঘাট থেকে ব্যাটারী চালিত লেগুনা গাড়ী দুর্গাসাগর দিঘীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। আপনি চাইলে সি.এন.জি অথবা অটোরিক্সা রিজার্ভ করে ভ্রমন করেতে পারবেন ঐতিহ্যবাহী দুর্গাসাগর দিঘী।

আরও পড়ুন: আজকের ট্রেনের সময়সূচী – ২১ জুলাই ২০২৩

সড়ক পথে ঢাকা থেকে বরিশাল

সড়ক পথে ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে প্রায় ছয় থেকে আট ঘণ্টা সময় লাগে। প্রতিদিন ভোর ৬ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত ঢাকার গাবতলি বাস টার্মিনাল থেকে নিয়মিত ভাবে বাস বরিশালের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। বাসগুলো সাধারণত পাটুরিয়া ঘাট দিয়ে বরিশাল যায়, তবে কিছু বাস মাওয়া ঘাট পাড় হয়ে বরিশালের দিকে যায়। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বাসগুলো বরিশাল শহরের নতুল্লাবাদ বাস স্ট্যান্ডে এসে থামে।

ঢাকা থেকে বরিশাল রুটে চলাচলকারী বাসগুলোর মধ্যে আছে

  • হানিফ পরিবহন, মোবাইল- ০১৭১৩-০৪৯৫৫৯
  • ঈগল পরিবহন, ফোন-০২-৯০০৬৭০০
  • শাকুরা পরিবহন, মোবাইল ০১৭২৯৫৫৬৬৭৭

এসব বাসের ভাড়া:
বরিশাল যেতে এসি এবং নন-এসি বাসের ভাড়া ৬০০ থেকে ১৩০০ টাকা। এই রুটে বেশ কিছু লোকাল বাস চলাচল করে। লোকাল বাসের ভাড়া ২৫০-৩০০ টাকা। তবে সময় বাঁচাতে এসব লোকাল বাস ভ্রমন না করাই ভালো।

বরিশালের দুর্গাসাগর দিঘীর সৌন্দর্য
অপরুপ দুর্গাসাগর দিঘী

নৌ-পথে বা লঞ্চে ঢাকা থেকে বরিশাল

ঢাকা থেকে বরিশাল রুটে যাতায়াতকারী লঞ্চগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো; কুয়াকাটা ২, এডভেঞ্চার ১, এম ভি মানামী, কীর্তনখোলা ২ ও ১০, এডভেঞ্চার ৯, সুন্দরবন ৯, সুন্দরবন ১০, সুরভী ৮, সুরভী ৭, পারাবত ১১, পারাবত ৯, গ্রিন লাইন সহ আরও কিছু লঞ্চ ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচল করে।

ঢাকার সদরঘাট থেকে বেশিরভাগ লঞ্চগুলো রাত ৮ – ৯ টার মধ্যে বরিশাল শহরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এবং রাতে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চগুলো ভোর ৫.০০ টার দিকে বরিশাল গিয়ে পৌঁছায়। ৯-১০ ঘন্টা সময় লাগে বরিশাল গিয়ে পৌছাতে।

লঞ্চের ভাড়া
প্রতিটি ডেকের ভাড়া ২০০-২৫০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন ভাড়া ১২০০-১৪০০ টাকা, ডাবল কেবিনের ভাড়া ২২০০-২৫০০ টাকা এবং ভিআইপি কেবিন ৪৫০০-৮০০০ টাকা।

কোথায় থাকবেন

বরিশাল শহরে অনেক ভালো মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে, যেখানে আপনি চাইলে থাকতে পারেন। অথবা দিঘীর পশ্চিমপাড়ে ঘাট সংলগ্ন রয়েছে জেলা পরিষদের ডাক বাংলো। আপনি চাইলে এখানেও রাত কাটাতে পারেন। বরিশালে থাকার জন্য আবাসিক হোটেলগুলো মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • হোটেল হক ইন্টারন্যাশনাল, ফোনঃ +৮৮-০১৭১৮৫৮৭৬৯৮
  • হোটেল গ্র্যান্ড প্লাজা, ফোনঃ +৮৮-০১৭১১৩৫৭৩১৮,
  • হোটেল প্যারাডাইজ টু ইন্টারন্যাশনাল, ফোনঃ +৮৮-০১৭১৭০৭২৬৮৬,
  • হোটেল এথেনা ইন্টারন্যাশনাল, ফোনঃ +৮৮-০৪৩১-৬৫১০৯,

জেনে রাখা ভালো

  • অপরিচিত কাউকে কোন কিছু শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন।
  • দিঘীর পরিবেশ নষ্ট হয় এমন কোন কাজ করবেন না।
  • নিজের সাথে থাকা টাকার ব্যাগ, কাপড়ের ব্যাগ ও অন্যান্য মালালাম সযত্নে রাখুন।

আশে পাশের দর্শনীয় স্থান

দূর্গাসাগর দিঘী দর্শনের পাশাপাশি আপনি ঘুরে দেখতে পারেন:
  • বাইতুল আমান জামে মসজিদ, যেটি গুটিয়া মসজিদ নামে পরিচিত
  • মাধবশাপা জমিধার বাড়ি
  • লাকুটিয়া জমিধার বাড়ি
  • শেরে বাংলা স্মৃতি জাদুঘর।

FAQ’s

দূর্গাসাগর দিঘী কোথায় অবস্থিত?

দিঘীটি রবিশালের বাবুগঞ্জে অবস্থিত।

দূর্ঘাসাগর দিঘীর জমির আয়তন কত?

জলাভূমির আয়তন ২৭ একর এবং পাড়সহ মোট আয়তন ৪৫.৪২ একর।

দূর্গাসাগর দিঘীতে প্রবেশের গেট কয়টি?

দিঘীতে প্রবেশের জন্য গেট ২টি।