তক্ষক কি, তক্ষক এতো দামি কেন! তক্ষক কী কাজে লাগে?

তক্ষক কি? তক্ষক যার ইংরেজি নাম Gecko, এবং বৈজ্ঞানিক নাম: Gekko gecko, তক্ষক গেকোনিডি গোত্রের একটি গিরগিটি প্রজাতির প্রানী। এদের পিঠের দিক ধূসর, নীলচে-ধূসর বা নীলচে বেগুনি-ধূসর হয়ে থাকে। এদের সারা শরীরে থাকে লাল ও সাদাটে ধূসর ফোঁটা ফোঁটা। বয়সে কম তক্ষকের লেজে পরপর গাঢ়-নীল ও প্রায় সাদা রঙের বলয় থাকে।

এদের শরীর থেকে মাথা অপেক্ষাকৃত বড়, নাকের ডগা চোখা ও ভোঁতা। তক্ষকের চোখ বড় বড় হয়, মণি ফালি গড়নের। লেজ সামান্য নিচের দিকে থাকে। তক্ষকের দৈর্ঘ্য নাকের ডগা থেকে পা পর্যন্ত ১৭ সে.মি এবং লেজ ও প্রায় ততটা লম্বা হয়। তক্ষকের ডাক চড়া, স্পষ্ট ও অনেক দূর থেকে শোনা যায়; ডাকের জন্যই এদের এই নাম। প্রথমে স্পষ্টস্বরে কক্‌কক্‌ আওয়াজ দিয়ে ডাক শুরু করে, অতঃপর ‘তক্‌-ক্কা’‘তক্‌-ক্কা’ ডাকে কয়েক বার।

তক্ষকের বিশেষ বৈশিষ্ট্য

তক্ষক রাতের বেলা খুব পরিষ্কার দেখতে পায়। তক্ষক মানুষের চেয়ে ৩৫০ গুণ বেশি দৃষ্টিসম্পন্ন হয়। তক্ষক আল্ট্রা-ভায়োলেট রশ্মিতে ও (সবুজ ও বেগুনি) খুব পরিষ্কার দেখতে পায়। অন্যান্য আত্মরক্ষী প্রাণীদের মতো তক্ষকের ইন্দ্রিয়ক্ষমতা বেশ দাপুটে। এদের শরীরের দাঁত, লেজ অথবা পা প্রভৃতি কোনোভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও তা আবার প্রাকৃতিক ভাবে পুনরায় গজাতে পারে‌।

তক্ষক কোথায় বাস করে

দক্ষিণ এশিয়ায় বিপর্যস্ত একটি প্রাণী তক্ষক। বর্তমানে ব্যাপক শিকারের কারনে প্রায় বিপন্ন হওয়ার পথে এই প্রাণী। অনেকে ভুলবশতঃ তক্ষককে বিষাক্ত সরীসৃপ হিসেবে চিহ্নিত করে সাথে সাথে মেরে ফেলে। বাংলাদেশসহ মায়ানমার, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, কাম্পুচিয়া, লাওস, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, চীন ও ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশে প্রায় ৬০০ প্রজাতির তক্ষক বাস করে। বাংলাদেশে প্রায় ২ প্রজাতির তক্ষক পাওয়া যায়। এরা গর্তে, গাছের ডালে অথবা ঘরের পাশের ভাঙা ফাঁকে বসবাস করে।

তক্ষকের খাবার

তক্ষক প্রধান খাদ্য কীটপতঙ্গ, পোকা-মাকড়, ঘরের টিকটিকি, ছোট ছোট পাখি ও ছোট সাপ খেয়ে বেঁচে থাকে।

তক্ষক কি কাজে লাগে

এশিয়া মহাদেশের প্রাচীন আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা ও আধুনিক চিকিৎসায় জটিল ও কঠিন রোগে যেমন- এইডস, হাঁপানি, ক্যান্সারের ওষুধ তৈরিতে তক্ষক ব্যবহার করা হচ্ছে। কার্যত এ ঔষধ ও পরীক্ষা তেমন ফলপ্রসূ না হলেও তক্ষকের শিকার চলছে অবৈধভাবে এবং অহরহ যার জন্য আজ এ নিরীহ প্রাণীটি বিলুপ্তির পথে।

তক্ষকের দাম কত?

তক্ষক কি
তক্ষক

সাধারণত ওজন ও বয়সভেদে তক্ষকের দাম বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। পরষ্পর হতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি ৩০০ গ্রাম ওজনের তক্ষকের দাম ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশী টাকায় ১৭ কোটি টাকারও বেশি। ওষুধ তৈরীতে প্রয়োগ, AIDS এবং ক্যান্সার এর প্রতিষেধক হিসেবে এর গুণাগুন আছে শুনা যায় বলে তক্ষকের দাম এতো বেশি।

বণ্যপ্রাণী সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সরকার অনেক উদ্যোগ গ্রহন করেছে। অতি গোপনে আইনের চোঁখ ফাকি দিয়ে এই প্রাণী হত্যা করা ও ক্রয়-বিক্রয় করা ইহা। অনেক অবৈধ সিন্ডিকেট রয়েছে বিভিন্ন দুঃষ্প্রাপ্য বণ্যপ্রাণী কেন-বেচা করে তাদের ফলেও এই প্রাণীর মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

আরও পড়ুন: যৌনস্বাস্থ্যে উপকারী খাবার

তক্ষক কেনা-বেচা কি বৈধ?

উত্তর হবে না। তক্ষক ক্রয়-বিক্রয় আন্তজার্তিকভাবে অবৈধ। বাংলাদেশে তক্ষক কেনা-বেচা বা তক্ষক অবৈধভাবে সংরক্ষণ আইনত অপরাধ। বাংলাদেশের মতো চীন-ফিলিপাইন ও অনান্য দেশেও তক্ষক শিকার ও ক্রয় বিক্রয় অবৈধ। বিশেষকরে ফিলিপাইনে এই প্রাণী সহ ধরা পড়লে কমপক্ষে ১২ বছর জেল এবং ১০ লক্ষ ফিলিপাইনো পেসো জরিমানা করার আইন রয়েছে।

তক্ষককে কি পোষ মানানো সম্ভব?

তক্ষক সাধারণত আগ্রাসী মনোভাব ধারণকারী বন্যপ্রাণী। এই প্রাণী খুবই জোড়ে কামড় দিতে পারে এবং শরীরে প্রচন্ড ব্যাথার সৃষ্টি করতে পারে। তবে বর্তমান সময়ে অনেকেই প্রাণীটিকে পোষ মানানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। যারা এই প্রাণীটিকে পোষ মানানোর চিন্তা করছেন তাদের জন্য পরামর্শ হচ্ছে, যদি আপনি বন্যপ্রাণী সম্পর্কিত ভালো জ্ঞান না রাখেন এবং আপনার ঘরে ছোটো শিশু থেকে থাকে তাহলে এ প্রাণীটি পোষ না মানানোর চেষ্টা করাই ভালো। তাহলে যে কোন সময় গঠতে পারে মারাত্মক কোন দুর্ঘটনা।

তক্ষক পেয়ে গেলে কি করবো?

যেহেতু ইহা একটি সংকটাপন্ন বণ্যপ্রাণী তাই ইহা কোনোক্রমে ধরতে পারলে বা ধরা পড়লে দ্রুত নিরাপদ কোন জঙ্গলে ছেড়ে দিবেন অথবা বন-বিভাগের নিকট হস্তান্তর করা উচিত।

কোনোক্রমেই তক্ষক বিক্রি করা উচিত নয় এবং ইহা কেনার জন্য টাকাও বিনিয়োগ করাও উচিত নয়। কারণ, বাংলাদেশে এমন বহু মানুষ রয়েছে যারা লোভের বশবর্তী হয়ে মোটা অংকের টাকা দিয়ে তক্ষক ক্রয় করে প্রতারিত হয়েছেন।

পরামর্শ :

যেহেতু তক্ষক ক্রয়-বিক্রয় অবৈধ এবং আইনগত অপরাধ, এছাড়াও এর কোনো নির্ভরযোগ্য বাজার নেই তাই সকলেরই এই লোভ পরিহার করা উচিত।