লাকুটিয়া জমিদার বাড়ী- বরিশালের ঐতিহ্য এই বাড়ী

লাকুটিয়া জমিদার বাড়ী বা জমীদার রাজচন্দ্র রায়ের বাড়ি বাংলাদেশের বরিশাল জেলার বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের লাকুটিয়া গ্রামে অবস্থিত ।

তথ্যসূত্র

অবস্থান               : বরিশাল জেলার (কাশিপুর ইউনিয়ন)
নির্মাণের সন      : আনুমান ১৬শত/১৭শত সালে
দূরত্ব                   : বরিশাল শহর থেকে ৮ কি.মি উত্তরে।
অবকাঠামো      : দ্বিতল বিশিষ্ট্য একটি প্রাসাদ, একটি মঠ, দিঘী ও মাঠ রয়েছে।

লাকুটিয়া জমিদার বাড়ী সম্পর্কে অজানা তথ্য

লাকুটিয়া জমিদার বাড়ি বরিশাল
লাকুটিয়া জমিদার বাড়ী

জমিদার বাড়িটি আনুমানিক ১৬০০ কিংবা ১৭০০ সালে জমিদার রাজচন্দ্র রায় নির্মাণ করেন। রাজচন্দ্রের পুত্র পিয়ারীলাল রায় একজন লব্ধপ্রতিষ্ঠিত ব্যারিস্টার ও সমাজসেবী লোক ছিলেন, এবং তাঁর দুইজন পুত্র সন্তান ছিলেন একজন বিখ্যাত বৈমানিক ইন্দ্রলাল রায় এবং বক্সার পরেশলাল রায়। তবে এই জমিদার বংশের মূল প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন রূপচন্দ্র রায়। জমিদার বংশের লোকেরা অনেক জন হিতকর কাজ করে গেছেন। তারা তখনকার সময়ে উল্লেখযোগ্য “পুষ্পরানী বিদ্যালয়” ও “রাজচন্দ্র কলেজ” নির্মাণ করেছিলেন। বর্তমানে জমিদার বাড়িতে তাদের কোনো উত্তরসূরি নেই।

এখানের শেষ জমিদার ছিলেন দেবেন রায় চৌধুরী। তিনিও পরে ভারতের কলকাতা শহরে পরিবারে নিয়ে চলে যান এবং সেখানেই পরলোক গমন করেন। তবে তিনি তার মেয়ে মন্দিরা রায় চৌধুরীকে বরিশালের কাশিপুরের মুখার্জী বাড়িতে রেখে যান। তিনি এখনো এখানে বসবাস করতেছেন।

বর্তমানে বরিশালের এই ঐতিহ্যবাহী লাকুটিয়া জমিদার বাড়িটি অবহেলিত থাকলেও থেমে নেই ভ্রমন পিপাসু পর্যটকদের ভিড়। ইতিহাস ঐতিহ্য খ্যাত এ জমিদার বাড়িতে প্রতিদিন দেশ বিদেশের সকল বয়সের মানুষের ভিড় লেগেই থাকে। সরকারী উদ্যোগে জমিদার বাড়িটি সংরক্ষণ করা না হলে শীঘ্রই পুরো জমিদার বাড়িটি বিলীন হয়ে যেতে পারে। প্রায় ৪০০শত বছর পূর্বে রাজা রায়চন্দ্র রায় নির্মিত এ বাড়িটি বরিশাল বিভাগের মধ্যে অন্যতম পুরনো জমিদার বাড়ি ও দর্শনীয় স্থান।

বরিশাল শহর থেকে জমিদার বাড়ীতে কিভাবে যাবেন

লাকুটিয়া জমিদার বাড়ি
লাকুটিয়া জমিদার বাড়ি

নদীমাতৃক বাংলাদেশের জলের রাজ্য দক্ষিণের বৃহত্তর বরিশাল। বরিশাল শহর থেকে ০৮ কিলোমিটার উত্তরে লাকুটিয়া বাজার। এরপর ইট বিছানো পথ কিছু দূর যাওয়ার পর রাস্তার ডান পাশে মিলবে জমিদারদের অনেক প্রাচীণ মন্দির আর সমাধিসৌধ। এগুলোর বেশির ভাগই আটচালা দেউলরীতিতে তৈরি এবং শিখর রীতির মন্দির। ৫টা মন্দির এখনো অক্ষতই আছে মনে হয়। জমিদার বাড়িটি রক্ষণা-বেক্ষণের অভাবে এখন পরিত্যক্ত ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। অথচ এই জমিদার বাড়িটিকে ঘিরে রয়েছে প্রায় ৪ শ’বছরের পুরনো ইতিহাস।

কোথায় থাকবেন

বরিশালের আবাসিক হোটেলগুলোর মধ্যে
হোটেল হক ইন্টারন্যাশনাল, ফোনঃ +৮৮-০১৭১৮৫৮৭৬৯৮
হোটেল গ্র্যান্ড পার্ক, +৮৮-০১৭১১৩৫৭৩১৮,
হোটেল এথেনা, +৮৮-০৪৩১-৬৫১০৯,
হোটেল এরিনা,
হোটেল সেডোনা,
হোটেল রোডেলা,
হোটেল রিচমার্ট গেস্ট হাউজ

বাংলার ভ্যানিস খ্যাত বরিশালে থাকার জন্য রয়েছে বেশ সুবিধা। উপরোক্ত হোটেলগুলোতে আপনি অনায়াসে থাকতে পারবেন।

জেনে রাখা ভালো

  • আপনি কোথায় ভ্রমন করতে যাচ্ছেন পরিবারের লোকদের বলতে ভুল করবেন না।
  • অপরিচিত জনতে কোন কিছু শেয়ার করা থেকে বিরত থাকবেন।
  • জমিদার বাড়ির পরিবেশ নষ্ট হয় এমন কোন কাজ করবেন না।
  • নিজের সাথে থাকা মালামাল সযত্নে রাখুন।

আশ-পাশের দর্শনীয় স্থান

  • কলসকাঠী জমিদার বাড়ি
  • উলানিয়া জমিদার বাড়ি
  • ৩০ গোডাউন (রিভার ভিউ পার্ক ও বধ্যভূমি )
  • শাপলা গ্রাম
  • গুঠিয়া মসজিদ
  • দূর্গাসাগর দিঘী।
  • মাধবশাপা জমিধার বাড়ি
  • শেরে বাংলা স্মৃতি জাদুঘর।

FAQ’s

লাকুটিয়া জমিদার বাড়ি কোথায় অবস্থিত?

বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের লাকুটিয়া গ্রামে অবস্থিত।

বরিশাল শহর থেকে জমিদার বাড়ির দূরত্ব কত?

বরিশাল শহর থেকে ৮ কি.মি উত্তরে।

লাকুটিয়া জমিদার বাড়ির শেষ জমিদার কে ছিলেন?

শেষ জমিদার ছিলেন দেবেন রায় চৌধুরী।