লক্ষনছড়ার সৌন্দর্য্য ও যাবার উপায়

লক্ষনছড়া (Lokkhonchora) সিলেট শহর থেকে অনেকটা দূরে গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত একটি পাহাড়ি এলাকা। এটি সিলেটের পান্থুমাই ঝর্ণা থেকে কিছুটা দূরে ও বিছানাকান্দি থেকে বেশ খানিকটা দূরে অবস্থিত। সিলেটের অন্যতম দর্শনীয় স্থান গুলোর মধ্যে লক্ষনছড়ার সৌন্দর্য্য ও অনেক বেশি।

পান্থুমাই ঝর্ণা থেকে পিয়াইন নদী ধরে কিছু দূর যাওয়ার পর হাদার পাড়ের পথ দেখা যাবে। সেখানে আরেকটি পাহাড়ি ঝিরি রয়েছে, যা ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে বাংলাদেশে প্রবাহিত হয়েছে। মূলত এর নামই লক্ষনছড়া।

লক্ষনছড়ার সৌন্দর্য্য

লক্ষনছড়া ও সেখানের আশেপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ যেন এক অপরূপ রূপে সেজে তার সৌন্দর্য প্রকাশ করে। পাহাড়ি ঝর্ণা থেকে বয়ে চলা স্বচ্ছ পানি এই স্থানটি দিয়ে বয়ে যায়। লক্ষনছড়া পান্থমাই ঝর্ণা থেকে কিছুটা দূরে ও বিছানাকান্দি থেকে বেশ খানিকটা দূরে অবস্থিত।

ভারতীয় সীমানা ঘেষে গ্রামের ভিতর দিয়ে অনেক গুলো ফসলের মাঠ পার করতে হবে। ঐ রাস্তা দিয়ে প্রায় ২০ মিনিট হাটার পর দেখতে পাওয়া যাবে লক্ষনছড়ার সৌন্দর্য্যমন্ডিত স্থানটি। এই জায়গাটি দেখতে অনেকটা বিছনাকান্দির মত। কিন্তু এখানে ছোট পরিসরে দেখতে আরো অনেক সুন্দর পাথরের ঝিরিপথ রয়েছে।

এখানে রয়েছে ভারতীয় সীমানার মধ্য দিয়ে চলাচলের জন্য ছোট্ট একটি ব্রিজ। আর এই ব্রিজের নিচেই ছোট বড় অসংখ্য পাথর এসে জমা হয়েছে। সেখানে এগুলো দেখতে খুব চমৎকার লাগে। পাথরগুলো একসঙ্গে জমাকৃত হওয়ার কারণে এক অসম্ভব সুন্দর ঝিরি পথের সৃষ্টি হয়েছে। লক্ষণছড়ার পানি অনেকটা শীতল প্রকৃতির। বাংলাদেশ ও ভারতের সেখানকার স্থানীয় জনগণরা এই পানি নিত্য প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করে থাকেন।

এরকম প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে খুবই দৃষ্টিনন্দন ও মনোমুগ্ধকর। আর এই পাথরের ঝিরি পথের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্যই সারা বছর শত শত দর্শনার্থীরা সেখানে ভিড় জমায়। ভরা বর্ষাকালে লক্ষনছড়ার সৌন্দর্য ফুটে ওঠে।

লক্ষনছড়া যাওয়ার উপযুক্ত সময়

অন্যান্য জায়গাতে শীতকালে ভ্রমণের উপযুক্ত সময় হলেও সিলেটের অধিকাংশ জায়গাতেই বর্ষাকালই হচ্ছে ভ্রমণের উপযুক্ত সময়। সেক্ষেত্রে লক্ষনছড়ার সৌন্দর্য্য উপভোগের উপযুক্ত সময় হচ্ছে বর্ষাকাল। কারণ বর্ষাকালে লক্ষণছড়া পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। কানায় কানায় চারপাশ পরিপূর্ণ হয়ে উঠে। শুকনো মৌসুমের চেয়ে বর্ষাকালই এর সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি উপভোগ করা যায়।

লক্ষণছড়া ভ্রমণে গেলে বিছানাকান্দি ও পান্থমাই ঝর্ণা একসঙ্গে ঘুরে আসতে পারবেন। পান্থমাই ঝর্ণা বিছানাকান্দি ও লক্ষণ ছড়া একই রুটে হওয়ার কারণে আপনারা একসঙ্গে তিনটি দর্শনীয় স্থান ঘুরতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে একটি নৌকা ভাড়া করে আপনারা একদিনেই তিন জায়গা ঘুরে আসতে পারবেন।

যেভাবে লক্ষনছড়া যাবেন

লক্ষনছড়া যাবার জন্য প্রথমে সিলেট আসতে হবে। সিলেটের সাথে সারা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যান্ত ভালো । বাস, ট্রেন, কিংবা আকাশপথে সিলেট আসা যায়। ঢাকার সায়দাবাদ, গাবতলী, ফকিরাপুল, মহাখালী থেকে নির্ধারীত সময় পর পর এসি নন এসি বাস ছেড়ে আসে। ঢাকার কমলাপুর, বিমান বন্দর ও চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেন ছেড়ে আসে সিলেটের উদ্দেশ্যে এসব ট্রেনে সিলেট আসা যায়। তাছাড়া আরামদায়ক ভ্রমনের জন্য আপনি আকাশ পথে বিমানের মাধ্যমে সিলেট আসতে পারেন।

আরও পড়ুন: আজকের ট্রেনের সময়সূচী 

এরপর সিলেট শহরের আম্বরখানা পয়েন্টে যেয়ে সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রোডের দিকের সিএনজি স্টেশন থেকে সিএনজি রিজার্ভ করে হাদারপার যাবেন। হাদারপার বাজার থেকে নৌকা ঠিক করে (নৌকা ভাড়া নিতে পারে ১১০০ থেকে ১৫০০ শত টাকা) পান্থুমাই যাবেন। পান্থুমাই ঝর্ণা দেখে ফেরার পথে কাছের গ্রামের ঘাটে নৌকা রেখে গ্রামের ভিতর দিয়ে ভারতীয় সীমানা ঘেষে সারি সারি ফসলের পাঠ পেড়িয়ে হাঁটা শুরু করুন। প্রায় ১৫ মিনিট পায়ে হাটার পর পেয়ে যাবেন ইসলামাবাদ নামে একটি ছোট খাল। এই খাল পার হলেই বাংলাদেশের শেষ গ্রাম লক্ষনছড়ায় পৌছে যাবেন।

ভ্রমন টিপস

  • বিছনাকান্দি,পনথুমাই ও লক্ষণছড়া, কুমুলছড়া দেখার জন্য একসাথে নৌকা ঠিক করে নিন।
  • লক্ষনছাড়া ভ্রমনের সময় গোয়াইনঘাট বাজারে দুপুরের খাবার খেয়ে নিতে পারেন।
  • হাটার সময় সাবধানতা অবলম্বন করুন। কারন সেখানে উঁচু নিচু অনেক পাথর রয়েছে।
  • হাদারপার এলাকা থেকে নৌকা ঠিক করে নিন।
  • সন্ধ্যার পূর্বে ফিরে আসার জন্য সময়ের দিকে খেয়াল রাখুন।
  • নৌকার মাঝি লক্ষনছড়া চিনে কিনা সেটা আগেই জিজ্ঞেস করে শিওর হয়ে নিবেন।
  • ময়লা আবর্জনা যেখানে সেখানে ফেলবেন না।

কোথায় খাবেন

সিলেটের জিন্দাবাজারে অবস্থিত হোটেল পাঁচ ভাই, পানশি, উঠান রেস্টুরেন্ট এবং পালকিতে দেশীয় বিভিন্ন প্রকারের খাবার যেমন হরেক রকমের ভর্তা, ভাজি, মাছ, মাংস সহ আরো অনেক আইটেমের রয়েছে। এসব হোটেলের খাবারের মান অনেক ভালো এবং মূল্যও অনেক কম। তাছাড়া হাদারপারেও খাবার খেয়ে নিতে পারেন।

কোথায় থাকবেন

লক্ষনছাড় এক দিনে ভ্রমন করা যায়। যাওয়া-আসাতে সময় না লাগার কারনে আপনাকে আর সেখানে থাকার চিন্তা করতে হবে না। সিলেট শহরে ফিরে আসতে হবে। আপনি যদি সিলেট বিভাগের বাসিন্দা হন তাহলে নিজ বাড়িতে অনাসায়ে যেতে পারবেন। আর সিলেট বিভাগের বাইরের হলে রাতের ট্রেনে যেথে পারবেন অথবা সিলেট থাকতে পারবেন। সিলেটে থাকার মত অনেকগুলো হোটেল আছে, আপনি আপনার সামর্থ অনুযায়ী যে কোন ধরনের ছোট বড় হোটেল পাবেন। থাকার মত কয়েকটি পরিচিত হোটেল হল – হোটেল হিল টাউন, দরগা গেইট, গুলশান, কায়কোবাদ, সুরমা ইত্যাদি। রাত যাপনের জন্য দরগা রোডে বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে। রুম ভাড়া ৫০০/- টাকা থেকে ৫০০০/- টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে ৷

আশপাশের দর্শনীয় স্থান

ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর 

জাফলং

জৈন্তা হিল রিসোর্ট 

আর পড়ুন:

হযরত শাহ জালাল (র:) মাজার, সিলেট 

হযরত শাহ পরান (রঃ) এর মাজার

সিলেট শাহী ঈদগাহ – Sylhet Shahi Eidgah

ভ্রমন করুন দেশকে জানুন। নিরাপদে ভ্রমন করুন এবং যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত থাকুন। আমাদের মাতৃভূমিকে সুন্দর রাখুন। অন্যজনকেও দেশের সুন্দরতা উপভোগ করতে সুযোগ দিন।